Monday, November 21, 2016

Of Hypocrisy, bideshis and the Mind Mafia

Notes: Last night (19th November 2016)  at the Dhaka LiT Fest panel discussion #FightingWords_poetry_through_dissent it looks like I upset a lot of people by saying 'we are a hypocritical nation'. Friends thought since most of the audience has never read my English poems or heard any of my Bengalee songs - it would be better if I could explain myself. Thank to them - a 'poem' was born this morning !!


Of Hypocrisy, bideshis and the Mind Mafia

by Mac Haque

I didn't have to say we are a ‘corrupt nation’
- for the bideshis have proved the point many times over
and told that to us on our face
and we have shamelessly gulped it
- because it was the truth…..or am I wrong again ?

I didn't say we are a blood thirsty ‘jihadi nation’
- or accuse ourselves of closet fundamentalism
cause the bideshis again have proved that point
and made a signed sealed and delivered case
thanks to the unholy occurrence at holey artisan -
but never forget
it was our own 'English educated' kin that
slaughtered them and here we are
reciting 'our bideshi' poems?

Because you have lost your human identity
you indulge in the ‘politics of identity’
and all you are left with
is to gulp secularism forced down your throat
because that’s the essence of a hypocritical nation
where you willingly accept a hypocritical system
that votes your hypocritical leaders to power
and you and I shed hypocritical facebook tears
on the Santhals being shot, their land burnt and grabbed
about Sanatan Temples and Buddhist pagodas being desecrated
about Chakma women being raped
of my friend Ishrat Akhond preferring death over forced Muslim prayers!

Shockingly the villains aren’t always
our known or sworn enemies the mollahs 
but the 'people of the people of the people of the people'
who you continue to vote for more power
as if there is no available option?

I’d rather not talk about nepotism but parochialism
for one way or the other your thought processes
are trapped in the time warp of your peasant ancestors
who today – you hate – because you think
you have moved on in life
thanks to your hypocrisy
of the 90 percent of ‘them’
as opposed to
the urbane pseudo sophisticated
that constitutes less than 10 percent of our population
and that’s ‘us’?

All I know is your living God is the Mind Mafia that remains ever so 'powerful'!

Back in nineteen ninety six
the hypocrite in us refused to listen to the improper pOET
when he first cried wolf (in a Bangla song)
about the impending 'mollah invasion'

Back in nineteen ninety six
there wasn't no Al Qaeda, ISIS or JMB
and all the pOET did was forecast (not 'predict')
the unfair weather that we are enveloped
since two thousand and thirteen
and the mess we are in now
- was a forecast - a loud warning was sent
.....but then the poet said things
your pretty hypocritical ears did not want to hear

I was termed a provocateur,
a 'no good' human being, a mad man -
because as hypocrites
we pretend in our so-called ‘sanity’
it is actually our un-sanity
that is our dominant nature?

Your hard souls neither listen to music nor have the time for poetry

Far from the point, hypocrisy for the nation
is now a genetic problem
We cannot easily shed off the coat of
fascism, communalism, xenophobia we wear
and all the hypocrisies in the name of religion.

I provoked by saying

‘the atheist debate isn’t new.
a belief in Bangladeshi politicians
equates to a disbelief in God.
......If there is atheism in Bangladesh this is it’

And I was told off in ‘propah Bangla’
By a bidesh born shodeshi patriot
how much I have belittled my nation
by saying ‘unpleasant things’
about our ‘own people’
in front of bideshis (foreigners)
WHAT HYPOCRISY?

How frail is patriotism
How frail are we as a nation
that a public exercise
to the democratic right of free speech
Is thwarted - not by the government
but by the Mind Mafia controlled people
Of this sorry nation?

I am staying away from stronger words like racism and fascism,

Breath easy folks.
We are at war with the Mind Mafia
The going isn’t going to be easy
If you are going to slumber or even sleep
It’s the job of the Improper pOeT to provoke
To wake you up
To make you think

Impropriety is in my genes
I am offering no apology!

Pallabi, 20th November 2016

Thursday, January 21, 2016

মিস্টার চ্যাটার্জির মদের দোকান



মাকুসুদুল হক 

কলকাতার ধরমতলায়  মিস্টার চ্যাটার্জি মদের দোকান| প্রতিদিনের রুটিন মোটামুটি একিরকম | চ্যাটার্জি  দোকান বন্ধ করে রাত ৯টায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন | ঘন্টা খানিক লাগে বাড়ি পৌছাতে | রাত ১১:৩০টার আগেই ডিনার শেষ করে ১২টা নাগাদ ঘুমিয়ে পরেন  | আবার ভোর ৬টাই ঘুম থেকে উঠেই সকাল ৮:৩০ দোকানে পৌছে ১০ টা সময়  দোকান খুলে বসেন - আবার শুরু হয় তার মদের ব্যবসা |

রেগুলার কাস্টমার মিস্টার ব্যানার্জি  কম বেশি প্রতিদিনই  চ্যাটার্জির  দোকান থেকে মদ কিনে নিয়ে যান | খুবই কম কথা বলেন | কখনই মদ বাকিতে কেনেন না - সেরকম রিকোয়েস্টও কোনদিন করেননি | মাতাল অবস্থায় তাকে কখনো দেখা যায় না | মাঝে মধ্যে চ্যাটার্জির সাথে হাই হ্যালো গুড মর্নিং বা গুড ইভনিং হলেও দীর্ঘ কথাবার্তা বা আড্ডা দুজনের কখনো হয়না | স্ত্রেইত ফরওয়ার্ড কাস্টমার-সেলার রিলেশনশিপ |
তবে সেই রাতটা  ছিল একটু ব্যতিক্রম | চ্যাটার্জি ঘুমোতে যাবেন - ঠিক তখনি সেই পুরনো আমলের ঝাক্কাস সাইজএর টেলিফোন (আজকের 'ল্যান্ড ফোন') ক্রিং ক্রিং ক্রিং বেজেই চললো | খানিকটা বিরক্ত হয়েই চ্যাটার্জি ফোন ধরলেন |ও পাশের কন্ঠটা পরিচিত মনে হচ্ছিলো

'হ্যালো চ্যাটার্জি বলছ  ?'

'ইয়েস - কে বলছেন?'

'চ্যাটার্জি আমি ব্যানার্জি '

'আরে দাদা - একি সৌভাগ্য - এ রাতে আমাকে মনে পড়লো যে ?.....' এরই মধ্যে ২-৩ মিনিট এটা সেটা খোশ গপ্প চললো - 'আসলে দুজনই এত ব্যস্ত থাকি - সেরকম কথায় হয় না'..ইত্যাদি ইত্যাদি ..তার  পর

'চ্যাটার্জী এবার মূল প্রসঙ্গে আশি - আচ্ছা আগামীকাল কটাই তোমার মদের দোকানটা খুলছে বলোতো?'

'দাদা টেন এ এম - সকাল দশটা'

'ও কে  থ্যান্ক ইউ সো মাছ চ্যাটার্জী - এই রাতে তোমাকে বদার করার জন্য খুবই দুক্ষিত - গুড নাইট'... বলে ব্যানার্জি টেলিফোন রেখে দিল

'এত রাতেকে ফোন কে দিয়েছিল গো?' - জানতে ছেলেন মিসেস চ্যাটার্জী

'আমার একজন রেগুলার কাস্টমার - মিস্টার ব্যানার্জি - খুবই অমায়িক ভদ্রলোক'

'এটা কি বলো? অমায়িক ভদ্রলোক এই রাতে কি কল করে? '

'না..উনি আসলেই খুব ভালো মানুষ - সকালে কটাই  দোকান খুলবে জানতে চেল - মনে হয় দুপুরে উনার কোনো পার্টি ফার্টি আছে - মদ লাগবে'  

'শেষ রাতে কোনো ভদ্রলোক ফোন করে না বুঝলে - করে মাতালরা ......ভদ্রলোক ....হুহঃ'

একই ছাদের নিচে বহু বছর বাস করলেও, একই খাটে ঘুমালেও মি আর মিসেস চ্যাটার্জির কেমন জানি একটা দুরত্ব | খুব কমই দুজন 'কাছাকাছি' ঘুমান |
'বিক্ষিপ্ত ঘটনা' ছাড়া দুজন কখনো একে অপরের চোখেও তাকান না |

তবে সেরাতে মিসেস চ্যাটার্জী যে কোনো কারণেই হোক মি চ্যাটার্জি কে 'অচমকা হামলা' করে বসলো|অনুমানিক রাত ১টায় … দুজনার 'কুস্তি' শুরু হবার প্রারম্ভে কিছু 'প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি' চলছে ... আর  ঠিক তখনি..... আবার সজোরে সেই বেহায়া টেলিফোন শুরু হলো  ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং.....

'হ্যালো চ্যাটার্জি আমি ব্যানার্জি  বলছি - সরি টু  বদার ইউ এগেইন ....আচ্ছা আগামীকাল সকাল কটাই জানি তোমার  মদের দোকান খুলবে বললা ?'

এ যাত্রা চ্যাটার্জী একটু বিরক্ত সরেই বললনে 'সকাল ১০টা.... টেন এ আম দাদা -  মদ ফদ যা লগে চলে এসেন এবং নিয়ে যেয়েন - ও কে?'

'ও কে থানক ইউ এগেইন' বলে ব্যানার্জি ফোন রেখে দিলেন

সে রাতের মিস্টার আর মিসেস চ্যাতের্জ্র 'মধুময় কুস্তি' আর হলো না | বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরে মিসেস চ্যাটার্জি ঘুমিয়ে পড়লেন ...মিস্টার চ্যাটার্জি এপাশ ওপাশ কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করে নাক ডাকা শুরু করলেন |

তখন ভোর ৪টা....  ওই একই  ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং ...বেজেই চললো... মিস্টার চ্যাটার্জি ফোন ধরেই বুঝলেন আবারও 'সেই ব্যানার্জি বেটা'...

'চ্যাটার্জি তোমাকে আবার একটু বিরক্ত করছি - আচ্ছা তোমার মদের দোকানটা তো সকাল ১০ টায় খুলবে, এবার বলো তো....... বন্ধ হবে কটাই?"    
 চ্যাটার্জি আর ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারল না - শুরু করলো খিস্তি


'আচ্ছা মশাই আপনাকে তো আমি একজন ভদ্রলোক মনে করতাম - আজ আপনি এ কি শুরু করলেন বলুন তো? এই রাত বিরাতে একই প্রশ্ন কটাই দোকান খুলবে কটাই দোকান বন্ধ হবে করেই যাচ্ছেন - আপনার কি কোনো কান্ডজ্ঞান নেই, যে এ সময় মানুষ ঘুমায়..আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন....?'

'এই চ্যাটার্জি প্লিজ তুমি আমাকে ভুল বুঝছ,... রাগ কর না প্লিজ..আমার কথা একটু শোনো'

'কি আর নতুন কথা শুনাবেন মশাই - একই বাজে কথা বকে যাচ্ছেন আর বকে যাচ্ছেন....'

'প্লিজ একটু থাম..শান্ত হও'

চ্যাটার্জি মাথা এতটা গরম যে সেই আর কোনো মতেই  থামছে না...৫ থেকে ৭ মিনিট অবিরাম খিস্তি চললো…..তারপর একটু হাফিয়ে উঠে শান্ত হলেন

এ সুযোগটাই নিলেন ব্যানার্জি

'শোনো চ্যাটার্জি….. তুমি আমাকে খামোখা ভুল বুঝছ ...বিষয়টা হলো...গতকাল রাতে তুমি যখন তোমার মদের দোকানটা বন্ধ করেছিলে ...আমি তোমার দোকানের ভেতরেই ছিলাম......এবং সেখান  থেকে বসেই  আমি মদ খাচ্ছি.....আর তোমাকে ফোন দিচ্ছি’  
   


Thursday, January 07, 2016

তোতা পীরের 'মাজার'



মাকসুদুল হক 

সাচ্চা পীর হুজুরের লাখো আশেকান ও মুরিদান - আসে শতশত মাইল দূর থেকে | একদিন এক মুরিদ তার ৪ বছরের ছেলে তোতা মিয়াকে হুজুরকে দিয়ে দিলো | তারা আর পারছে না | তাদের দারিদ্র আর অর্থ কষ্টের কথা শুনে হুজুর নিজেরে কাছে ছেলেটাকে রেখে দিলো| 

১৮ বছর কেটে যাবার পর তোতা মিয়া হুজুরের কাছে কেঁদে কেটে বায়না করলো 'হুজুর এতো দিনে আপনার কাছে কিছুই চাই নাই... একটা জিনিস চাবো - দেবেন ?' 

'বলেই দেখ ?'

'বাবা মা কে একবার দেখে আসি - সেই যে রেখে গেলো আর উনারা এলো না - আমার মন খুব কাঁদছে' বলেই অঝোরে কান্না 

হুজুর সম্মতি দিলেন| তোতা বাড়িতে যাবার সকল প্রস্তুতি শুরু করে দিলো | যাবার সময় ঘনিয়ে এলো | যাবার দিন হুজুর প্রশ্ন করলো

'যাবি কি করে?'

'পায়ে হেটে হুজুর'

'তুই পাগল নাকি  - ১০০ মাইল দুরে তোর্ বাড়ি - মরুভূমির পথ - তুই তো মারা যাবি ' বলে একটা স্বাস্থ্যবান গাধা উপহার দিয়ে বললো

'যা তোকে কিছুই এই অব্দি দেই নাই - এই গাধাটা দিলাম - ওটাতেই চরে যা - ১ বছর পর ফিরে আসিস .....কেমন?'

লাখো শুকরিয়া জানিয়ে সাচ্চা পির হুজুরকে কদমবুচি করে তোতা মিয়া গাধায় চরে চললো মা বাবার গ্রামের দিকে | ধুধু মরুভূমির পথ - পারি দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে তবু তোতা মিয়া চলছে আর চলছে | বুকের ভেতরে প্রচন্ড উল্লাস - আনন্দ ধরে রাখতে পারছে না | যাত্রার ৪ দিনের মাথায় ঘটে গেলো 'প্রচন্ড দুর্ঘটনা'..... ধপাস করে গাধাটা পরে গেলো..... আর তারপরে মৃত্যু | 

তোতা মিয়ার কান্না আর থামে না | তার কান্না মা বাবা কে দেখতে পাবে না, বা নিজেও এই মরুভূমিতে মরে যেতে পারে সে কারণে মোটেও না | তার অবিরত কান্না শুধু এইটুকু ভেবে যে সাচ্চা পীর হুজুর জীবনে এই এক গাধা ছাড়া তাকে কিছুই দেননি - আর এই গাধাটা কি না মরে গেলো? 
তোতা মিয়া কেঁদেই চললো....কিছু খেতে পারে না - কারো সাথে দু:খে কথাও বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে | 

ওদিকে মরা গাধাটার পচন শুরু হয়েছে - দুর্ঘন্ধের ঠেলায় আশ পাশের লোক ছুটে আসে - তোতা মিয়া কে সান্তনা দেই, অনেক প্রশ্ন করে - সে কোনো কিছুই উত্তর দিতে পারে না - কেবল কান্না | 

এক অত্যন্ত দয়ালু ব্যক্তি গাধাটাকে কবর দেয়ার ব্যবস্থা করে দিলো | আশপাশ দিয়ে কিছু পাথর দিয়ে কবরটা চাপা দেয়ার ব্যবস্থাও হলো | তোতা মিয়ার তবুও কান্না থামে না | দিন যায় রাত আসে লোকজন দেখে একটা কবরের পাশে একটা ছেলে কাঁদছে..এ এক বিচিত্র চিত্র যা আগে কেউ দেখেনি 
আরো কিছু দয়ালু লোক আশ পাশ থেকে আরো পাথর এনে কবর শক্ত করে - কেউ কেউ মোমবাতি আর আগর বাতি দেয়া শুরু করে - কেউ গোলাপ জল....এক বছর যেতে না যেতে মোটামটি ভালো সাইজের ইমারত দালান তৈরী হয়ে যায় - এবং লোকজনের সমাগম শুরু হয় - তার সাথে দোওয়া, দরুদ, জিকির ইত্যাদি| 

২ বছরের মাথায় ইমারত দালান টি ১০ গুন বড়ো হয়ে গেলো আর লোকজনের জিয়ায়ারত সহ মনের ইচ্ছার 'মান্নত' ও পূরণ হওয়া শুরু হলো.... মাশাল্লাহ ! লোকজন ইমারত দালানটিকে বিভিন্ন সুরা, আয়াত, দোওয়া, হাদিসের বর্ণনা ইত্যাদি সহ নাম ফলক সেটে দেয় ....'তোতা পীরের মাজার'| ৩ বছরের মাথায় তোতা মিয়ার আশেক ও মুরিদান ১০ লক্ষ পার হয়ে যায়...সবি আল্লাহর ইচ্ছায় ...... 

ওদিকে সাচ্চা পীর হুজুর খুবই চিন্তিত দুটি বিষয় নিয়ে | প্রথমে তোতা মিয়া যে গেলো ১ বছরেরে জন্য - তা ৩ বছর হয়ে গেলো তার কোনো খবর নেই কেনো? দ্বিতীয় বিষয় হলো তার মাজারে লোকজন আসা কমতে কমতে একেবারে থেমে গেছে কেনো ? 

চতুর্দিকে খোজ খবর নেবার পর হুজুর জানতে পেলেন আরেক মাজার ঠিক মাঝ পথে উঠেছে যা উনার মাজারের থেকেও অনকে বেশি 'গরম' এবং শুধু তাই নয় - অসম্ভব কুদরতি ঝারফুক দিয়ে 'অলৌকিক চিকিত্সা' অনেকেই সুষ্ট সবল হয়ে উঠেছে | যে যা মনের ইচ্ছার পূরণের মান্নত করছে তাও পাচ্ছে - কেও আর অত দুরেরে সাচ্চা পীরের মাজারে যেতে মোটেও আগ্রহী নয় | সাচ্চা পীর এই সকল সংবাদ পেয়ে খুবই বিচলিত হয়ে উঠলেন | নিজে গিয়ে স্বচক্ষে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন আর ঠিক তার পরদিন ছুটলেন এই নতুন 'মাজারের' উদ্দেশ্যে | গিয়ে অবাক বিশ্বয়ে দেখে তার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র তোতা মিয়া - এই বিশাল 'মাজারের' মধ্যমনি |

সাচ্চা পীরকে হঠাথ দেখে তোতা মিয়া চমকে উঠে পায়ে লুটে পরে.... সেই কান্না আর কান্না আর কান্না - আর কেবল ৪টি বাক্য ...'হুজুর আমাকে মাফ করেন' | সাচ্চা পীর সারাদিন চেষ্টা করে তোতা মিয়ার কান্না থামাতে পারছে না - মাঝেমাঝে তার মুর্ছাও হচ্ছে - কি মুসিবত ! ইতিমধ্যে তোতা মিয়ার নব্য মুরিদগণ 'পীরের পীর' এর হঠাত আগমনে বিশাল এক নৈশ খানা পিনার ব্যবস্থা করলো | সন্ধার পর তোতা মিয়া একটু স্বাভাবিক হওয়া শুরু করলো | রাতে সাচ্চা পীর তোতা মিয়াকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে বললো ...'যা তুই আমাকে সঠিক ভাবে বল এই মাজারটা কি করে হলো | তোকে কেবল মাফ আমি করছি না - তুই যদি ১০টা বা তার বেশি খুন ও করে থাকিস - তাও মাফ...হলো ? '

তোতা মিয়া ঢোক গিলতে গিলতে সম্পূর্ণ ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করলো প্রায় ২ ঘন্টা ধরে| সাচ্চা পির হুজুর একেবারে নিরব| তোতা মিয়াকে কিছুই বলে না | ভয় আর আতঙ্কে তার সময় কাটছে - ফজরের আজান পড়লো | সাচ্চা পীর নামাজ আদায় করলেন - তোতা মিয়া তার ধারে কাছেও ভিরলো না | নামাজ শেষ করে সাচ্চা পীর হুজুর দন্ত খিল্লাল করতে করতে তোতা মিয়ার মুখের দিকে তাকালো অনেক ক্ষন | তারপর বুকে জাপটে তোতা মিয়াকে ধরলো এবং মাজারের দিকে ইশারা করে বললো - 


'সাবাস বেটা .....তোর্ সবি ঠিক আছে .....আমার ওখানে যেটা আছে - ওটা এই গাধাটার বাপ' :)


Wednesday, September 16, 2015

Interview : মনই জীবনের কথা বলে : মাকসুদ

মনকে ভীষণ গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্বাস করেন মনই মানুষের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। মন খারাপ হলে নিরব থাকেন। ধ্যানে থাকেন। রেগে যান, হতাশ হন কেউ মিথ্যা কথা বললে। পেছনের জীবন নিয়ে কখনও আফসোসে ভোগেন না। আগামীর দিকে তাঁর চোখ। তিনি মাকসুদুল হক। ব্যান্ড স্টার এই তারকার মুখোমুখি হয়েছেন ওমর শাহেদ। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ হানজালা

মখ : কেমন আছেন?
মাকসুদ : ভালো।
মখ : কেন ভালো আছেন?

মাকসুদ : সবসময় ভালো থাকি। এজন্য ভালো আছি।

মখ : ভালো থাকাটা জরুরী?

মাকসুদ : অবশ্যই।

মখ : কেন?

মাকসুদ : ভালো না থাকলে খারাপ এসে ঘাড়ের উপর চেপে বসে। তাই খারাপ সিচুয়েশনেও ভালো থাকতে হয়। সবকিছুর সঙ্গে মন জড়িত। মন দেহকে পরিচালনা করে এবং দেহ মনকে পরিচালিত করে। কে কাকে করে এটা সবসময় বিতর্কের বিষয়। কিন্তু আমার ধারণা, মনই সবকিছু। মনই তার জীবনের কথা বলে। মনটা যেন সুস্থ থাকে, সবল থাকে, ভালো থাকে এবং আনন্দে থাকে- তার কোন বিকল্প নেই।

মখ : ভালো থাকতে হলে কোন কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হয়?

মাকসুদ : প্রথমতঃ নিজের সঙ্গে নিজের সততা- ‘ইউ হ্যাভ টু বি অনেষ্ট উইথ ইউরসেলফ’। পারিপার্শিক সমস্যা নেই, এমন কোন মানুষও পৃথিবীতে নেই। দুই ধরনের লোকের কোন সমস্যা নেই। একটা হলো শিশুর কোন সমস্যা নেই। আরেকটি হলো সম্পুর্ণ উন্মাদ লোকের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তারা বাদে সবারই সমস্যা আছে। সমস্যার ভেতরেই সমাধান আছে, সমস্যার বাইরে না। সবচেয়ে জরুরী হলো, সমস্যাকে চিহ্নিত করা এবং সেগুলোকে যুক্তি দিয়ে শেষ করা। সমস্যা হয়েছে, সেটাকে যুক্তি দিয়ে, নিজের ভালো বুদ্ধি দিয়ে পেরিয়ে আসা। সেখানেই মানুষের সার্থকতা। যারা সমস্যাকে ওভারকাম করতে পারে তারাই সাকসেসফুল হয়। এটা আমার একটা সিম্পল হিসেব।

মখ : সমস্যাকে কিভাবে সমাধান করতে হবে? আর এটা কেন জরুরী?

মাকসুদ : ওই যে আমি গান বলেছি, আগামী শুধু আসবে আজকের বেঁচে থাকায়। আগামী তো শেষ। আগামী যদি দেখা যেত, ঈশ্বর তাহলে আমাদের মাথার পেছনে দুটো চোখ দিতেন। উনি তো সেটা দেননি। প্রতিটি দিন কেন, প্রতিটি মুহুর্তে সবসময় ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আশা দেন, আশার বাণী দেন। সেই আশার বাণীটা হলো আগামী। আগামীটার জন্য আমাদের সবসময় পজেটিভ থাকতে হবে। সবসময় ভালো থাকতে হবে। আগামী নির্ণয় করবে আমার ভবিষ্যতটা কী হবে? পেছনে যা ফেলে এসেছি, সেগুলোর জন্য বারে বারেই পেছনে পড়ে থাকার কোন অর্থ হয় না। প্রত্যেকটা মুহুর্তকে নতুন করে বোঝার আছে, প্রত্যেকটা মুহূর্ত ইম্পর্টেন্ট। সেই মুহূর্তগুলোকে কিভাবে নিজের কাজে লাগাতে পারি সেটাই হলো আমাদের কাজ। পেছনের ঘটনাগুলো হলো আমাদের অভিজ্ঞতা। পেছনের ঘটনাগুলো কি কারণে আমার জীবনে খারাপ হিসেবে এসেছিল? কি কারণে মনের অবস্থা খারাপ হয়েছিল? – সেগুলোর যদি সবসময় একটা সৎ বিশ্লেষণ করি, তাহলে ভবিষ্যতে সে ভুলগুলো আর করতে পারি না। একটি জিনিষ খুব স্পষ্ট- একজন মানুষ একটি ভুল একবারের জায়গায়  যদি দুবার করে সেটা গ্রহনযোগ্য। কিন্তু তৃতীয়বার করাটা বোকামি, চতুর্থবার করলে বুঝতে হবে তার শোধরানোর ইচ্ছেই নেই। অর্থাৎ মানুষ যদি তার নিজের দোষগুলোকে স্বীকার না করে এবং সবসময় মনে করে, ‘আমিই রাইট’ তাহলে তো সমস্যা। সে ঐ সমস্যা থেকে বেরুতে পারবে না। এগুলো মানুষের ক্যারেক্টারে চলে আসে।

মখ : মন খারাপ হয় না?

মাকসুদ : অনেক হয়।

মখ : তখন কি করেন?

মাকসুদ : মন খারাপ হলে যে কাজটি করার সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করি- যত নিরব থাকা যায়। একেবারে ধ্যানে থাকি। বসে ধ্যান করতে হবে এমন কোনো ষয় আছে বলে আমার মনে হয় না। যে অবস্থায় থাকি- কাজকর্মের ভেতরে, বাসায়, বইয়ের ভেতরে, একাকীত্বে মন খারাপকে হ্যান্ডেল করি। মন যখনখারাপ হয়, আমি খারাপ হতে দেই। কত আর তুমি খারাপ হবে মন? মন খারাপেরও শেষ আছে, মন ভালোরও শেষ আছে। মাঝামাঝি থাকারটাই হলো আনন্দ।

মখ : মন ভালো কিংবা খারাপ, দুঃখ-কষ্ট, রাগ-হিংসা- এগুলোকে কিভাবে দেখেন?

মাকসুদ : এগুলো আমাদের বেসিক স্বভাব-চরিত্রের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত। তবে কত পার্সেন্ট সেটা নির্ণয় করতে হয়। খারাপ রোগ, শোক, দুঃখ এগুলো যদি আমাকে কাতর করে ফেলে তাহলে কিন্তু আমি ফাংশন করতে পারবো না। রেলওয়ের যেমন বগি হয়, তেমনি এগুলোকে আমি জীবনের বগিতে ফেলে রাখি। আচ্ছা রাগটা উঠেছে, কতক্ষণ রাগ থাকবে? খুব বেশি হলে ১০ মিনিটের বেশি রাগ করে থাকতে পারি না। দিনকে দিন একটি লোক যে রাগ করে থাকে, অভিমান করে থাকে- এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। এগুলো ওভারকাম করতে চাই এবং করিও।

মখ : কি কারণে রেগে যান?

মাকসুদ : স্পেসিফিক কতগুলো কারণে। মিথ্যা সহ্য করতে পারি না। নিজেও মিথ্যা বলি না। কেউ যদি মিথ্যা বলে, তিলকে তাল করে, অসত্যকে সত্য বলে স্টাবলিস্ট করতে চায় এবং সেজন্য ইচ্ছে করে যুক্তি-তর্ক করে, সে রকম সিচুয়েশন মেনে নিতে পারি না। মানুষের অহংকার মানতে পারি না। কারণ নিজে অহংকারী নই। সুতরাং অহংকার যার ভেতরে বেশি, যার ভেতরে মিথ্যা বেশি; এই যুগটাই তো মিথ্যার উপরে চলছে; হয়তো বাসায় ঘুমিয়ে আছি। কিন্তু বলছি পথে আছি- এই মিথ্যাগুলো; মিথ্যা নিতে পারি না। মিথ্যা খুব হতাশ করে। হতাশ হলে রেগে যাই।

মখ : রাগ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন?
মাকসুদ : রাগ তো অবশ্যই দমিয়ে রাখতেই হবে। এটা অনগোয়িং প্রসেস। রাগ তো হবেই। ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি মানুষ ১৬ ঘন্টা জেগে থাকে, তার রাগ হবে না- এটা খুব অস্বাভাবিক। দিনে একবার না একবার রাগ হবে। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে রাগের মাত্রাটা কতটুকু? চিৎকার, চ্যাঁচামেচি করবো? হাত তুলবো? কাউকে গালি দিবো? না, অতটা রাগ করি না।

মখ : রাগ নিয়ন্ত্রণ দরকার?

মাকসুদ : খুবই বেশি।

মখ : কিভাবে দরকার? পরামর্শটা কি?

মাকসুদ : ব্যক্তিগতভাবে প্রণয়াণম, ইয়োগা করি। তাতে একধরণের শিথিল মেন্টালিটিতে আছি। ঘুমও কম হয়। এত বেশি এনার্জি, এত রিলাক্স থাকি যে, চারঘন্টা বা পাঁচঘন্টা ঘুমই যথেষ্ট। আমি মনে করি, আমারা এক্সারসাইজ করি, মাসল নিয়ে চিন্তা করি; দেহ নিয়ে চিন্তা করি, বডি ফিটনেস কেমন সেটা য়ে চিন্তা করি, একবারও চিন্তা করি না মানসিক স্বস্তি আছে কিনা। যোগ এখানে একটি ডিফরেন্ট ইমাজিনেশন; যোগ ব্যায়াম না; যোগ হলো যোগাযোগ। যোগ হলো বিয়োগের উল্টোটা। এই যে আপনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আছেন, এই যে কসমিক এনার্জির ভেতরে আছে, এই এনার্জির ভেতরে আপনাকে থাকতে হবে এবং সবকিছুর আপনি একটি অংশ- মাটি, বাতাস, প্রকৃতি। সে বারবার রিমাইন্ড দেবে এবং বারে বারে সে জায়গায় নিয়ে আসবে। যোগ শরীরের সব অঙ্গ ত্যঙ্গকে ব্যায়াম করায়। যেটা আমরা স্বভাবত করি না। শুধু মাসল নিয়ে ব্যস্ত থাকি, ফিগার নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের বুকের পাটা কত বড় সেটা হিসাব করতে থাকি। শাহরুখ খান হতে পারলাম না সালমান সেটা হিসাব করতে থাকি। কিন্তু যোগ সেটা না। যোগ অভ্যন্তরীণ এবং সবসময়কার।

মখ : কি কাজ করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?

মাকসুদ : আমি একটু ফিলসফিক্যাল। ধ্যানে থাকতে পছন্দ করি। একটা সুন্দর চিন্তা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকি। এটাই সবচেয়ে আনন্দের। সাধারণত সৃষ্টিশীল চিন্তা। সমগ্র মানুষের ভালো কি করে করা যায়- এ ধরনের চিন্তা খুব আনন্দ দেয়।

ছবিঃ মোহাম্মদ হানজালা

মখ : ভেতরে তো হিংসা আছে?

মাকসুদ : একেবারে নেই তা বলবো না। কিন্তু হিংসা সাধারণত করি না। যদি বলি হিংসা নেই, তাহলে তো আমি মানুষ না। মানুষের ভেতরে হিংসা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পারসেন্টেজটা একেবারেই কম। ও করছে, তার থেকে ভালো কিভাবে করতে পারি, এই পজিটিভ চেষ্টাটা আমার আছে।
মখ : মানসিক ভাবে কখনো অসুস্থ হয়েছেন?

মাকসুদ : হয়েছি।
মখ : তখন কি করেছেন?

মাকসুদ : মানসিক ভাবে যখন অসুস্থ হয়েছি আমাকে একবার ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফিয়ার সাইকোসিস যেটা বলে, সেটা হয়েছিল। প্রায় মাস দেড়েক ফাংশনাল ছিলাম না। এ দেশে সমস্যা হলো, মানুষ যখন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়, তখন তাকে পাগল বলা হয় এবং পাগল শব্দটা একটা সামাজিক অপরাধ। তবে আমি মনে করি, আইনস্টাইন থেকে শুরু করে বিশ্বের এমন কোনো বড় মানুষ নেই, যারা নতুন কিছু করতে গিয়েছেন, পাগল বলা হয়নি। আরো মনে রাখতে হবে, কোনো লোকই হান্ডেড পারসেন্ট মেন্টালি ফিট না। যে বলবে আমি মানসিক ভাবে ১০০ ভাগ সুস্থ সে আসলেই পাগল। ওই যে আমরা রাগ করলে বলি- তখন আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু সেটা যদি দিনে আট ঘন্টা বা দশ ঘন্টা বা তার চেয়েও বেশি থাকে, তার জন্য ট্রিটমেন্ট আছে এবং সে চিকিৎসা বাংলাদেশে এখন হাতের নাগালে।

মখ : স্বপ্ন দেখেন?

মাকসুদ : দেখি।

মখ : ঘুমের মধ্যে দেখেন নাকি স্বপ্ন তৈরি করেন?

মাকসুদ : ঘুমে দেখি। আর এমনি তো নিজের মনে একটা স্বপ্ন থাকে।

ওই যে আমি গান বলেছি, আগামী শুধু আসবে আজকের বেঁচে থাকায়। আগামী তো শেষ। আগামী যদি দেখা যেত, ঈশ্বর তাহলে আমাদের মাথার পেছনেদুটোচোখ দিতেন। উনি তো সেটা দেননি। প্রতিটি দিন কেন, প্রতিটি মুহুর্তে সবসময় ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আশা দেন, আশার বাণী দেন। সেই আশার বাণীটা হলো আগামী। আগামীটার জন্য আমাদের সবসময় পজেটিভ থাকতে হবে। সবসময় ভালো থাকতে হবে। আগামী নির্ণয় করবে আমার ভবিষ্যতটা কী হবে? পেছনে যা ফেলে এসেছি, সেগুলোর জন্য বারে বারেই পেছনে পড়ে থাকার কোন অর্থ হয় না। প্রত্যেকটা মুহুর্তকে নতুন করে বোঝার আছে, প্রত্যেকটা মুহূর্ত ইম্পর্টেন্ট। সেই মুহূর্তগুলোকে কিভাবে নিজের কাজে লাগাতে পারি সেটাই হলো আমাদের কাজ।

মখ : ঘুমে কি ধরনের স্বপ্ন দেখেন?
মাকসুদ : স্পেসিফিক্যালি বলা ডিফিক্যাল্ট। খুব পজেটিভ স্বপ্ন দেখেছি। ভয় পাওয়া বা হতাশ হওয়ার মতো স্বপ্ন দেখিনি। মৃত লোকদের দেখি। বাবাকে দেখি,চাচাকে দেখি। মরহুমা স্ত্রীকেও দেখি। মৃত লোককে দেখি। বাট নট রেগুলার। স্বপ্নে কোন ম্যাসেজ দেওয়া হলে সেটি রাখার চেষ্টা করি। ব্যাপারটির একটিউদাহরণ দেই- আমার চুল লম্বা ছিল। গোঁফ ছিল। ১৯৮৭ সালে বাবা মারা গেলেন। ‘৯২তে তাঁকে স্বপ্ন দেখলাম। রসিকতা করে বললেন, ‘তুই মোচটা কেটে ফেল। আর নয়। আর মোচ রাখিস না।’ উনি মোচ রাখতেন না। এই আমি তখন থেকে ক্লিন সেভ। এটা ভালো না মন্দ জানি না। তবে বাবার কথা রাখলাম।

মখ : নিজে ভালো থাকার জন্য অনেক কিছু করি। কিন্তু অন্যরা যাতে আপনাকে ভালোবাসে, ভালো বলে, তাদের ভালো লাগে- সেজন্য কতটা সচেতন?মাকসুদ : আমি মানুষটা চেষ্টা করি সবার সঙ্গে ভালো থাকার। এটা আমার ক্যারেক্টার। আমি সবার কাছে হেল্পফুল, মানুষকে সময় দেই। এক্সেস দেই। আলাদা করে ভালো থাকতে হবে, সে চেষ্টা করি না। আমি যা সেটা যদি কেউ মেনে নেয়, ওয়েল এন্ড গুড। অনেকে হয়তো নাও মানতে পারে। হয়তো মুখের উপর বলে দেওয়াটা নাও মানাতে পারে। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি আমার বেসিক ক্যারেক্টার তো চেঞ্জ করতে পারবো না। এটা নিয়েই আমার জন্ম।

মখ : কাউকে প্রবলভাবে ভালোবাসেন?
মাকসুদ : ভালোবাসতে তো হবেই। তার উপরে আমি শিল্পী। আমার ভালোবাসার পরিধিটা বিশাল।

মখ : আপনার প্রফেশনে আপনিতো একজন সফল মানুষ। আপনি কি মনে করেন অন্য প্রফেশনেও আপনি সফল হতে পারতেন?
মাকসুদ : সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে কখনো খুব একটা চিন্তা করি না। আমি কাজের মানুষ, শুধু কাজ করি। যত রকম কাজের সুযোগ পাই, করি।সিনসিয়ারলি করি। এটা নিয়ে আমার একটা সুনাম আছে যে, মাকসুদ ভাইকে যদি কোন কাজ দেওয়া হয়, তিনি সেটা মনোযোগ দিয়ে, ভালোভাবে করেন। এই সিনসিয়ারিটির যদি দাম দেয় তাহলে ভালো। আর না দিলেও আমার কিছু আসে যায় না। সফল না বিফল এটা নিয়ে কখনো ভাবি না।

মখ : নিজের কাছে মানুষ হিসেবে কেমন?
মাকসুদ : খুব একটা ভালো মানুষ না (হাসি)। ভালো মানুষ বা সাকসেসফুল মানুষের সংজ্ঞা যদি হয় টাকা, প্রভাব, প্রতিপত্তি; সে সংজ্ঞায় মোটেও পড়ি না।সুতরাং আমাদের সমাজ ভালো মানুষের যে সংজ্ঞাটা দেয়, সে সংজ্ঞার ভেতরে আমি পড়ি না। চেষ্টা করি সবার সঙ্গে ভালো থাকার। বিশেষ করে একেবারে নিকট আত্মীয়-স্বজন, বউ-বাচ্চা, বন্ধু বান্ধব। যারা সংস্পর্শে আসে চেষ্টা করি টু মেক দেম ফিল ইমপরটেন্ট। কাউকে ছোট চোখে দেখি না। সে একটা বাউল হোক, সে গরীব মানুষ হোক। সবাইকে সম্মান দেই। এতে যদি আমি ভালো মানুষ তো ভালো মানুষ, জানি না। তবে মানুষের ভালোবাসা অনেক পাই। এতে কোন সন্দেহ নেই।

মখ : যে কোন সফলতার পেছনে মানসিক সুস্থ্যতা বা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জীবনে এটার প্রভাব কতটুকু? ভয়ংকর উত্থান পতনের ভেতর দিয়ে আপনি গিয়েছেন।

মাকসুদ : একটা মাত্র জীবন। প্রত্যেকটা মুহূর্ত শিক্ষণীয়। মানসিকভাবে যখন অসুস্থ থেকেছি, দুই বছর, তিন বছর- যাই হোক না কেন, কম আর বেশি; এখান থেকে তো শিক্ষা পেয়েছি। সেটাই কাজে লাগিয়েছি। একেবারে আকাশ পর্যন্ত উঠেছি, মাটিতেও পড়েছি। একবার না, এটা সবাই জানেন, অনেকবার। এই উত্থান-পতনের ভেতরেও মানুষের একটি ডিগনিটি আছে, সেলফ রেসপেক্ট আছে। মানুষ জানে, আমি আমার সেলফ রেসপেক্ট কখনো হারাইনি। এই বেসিক ক্যারেক্টারটি চেঞ্জ করিনি।

মখ : জীবনের শেষ প্রান্তে নিজকে কোথায় দেখতে চান বা জীবন যখন শুরু করেছিলেন কখনো কি ভেবেছিলেন একদিন মাকসুদ হয়ে উঠবেন?
মাকসুদ : একটি স্বপ্ন ছিল। জানতাম একটি জায়গায় যেতে পারবো। আমি সত্যিই জানতাম। যেটার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া মুশকিল। কিন্তু কোনজায়গায় যাব সেটা জানতাম এবং সেজন্যই কিন্তু আমি কাজগুলো করেছি। এখনো সেই আমার মধ্যে আছে। যে জেনেছি এবং নিজেকে নিয়ে যা ভেবেছি তার অধিকাংশই পেয়েছি। সবাই পেতে চায়। কিন্তু আমার তো দেবার অনেক আছে। যেটা দেবার আছে সমাজ, আমার দেশ, আমাদের মানুষ তা নিতে পারেনি। তার ১০ ভাগও সমাজ নিতে পারেনি। আমার দুঃখ শুধু ওই জায়গায়। বামবা থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে কখনোই ব্যক্তি মাকসুদের কথা চিন্তা করিনি। সবসময় সমষ্টির কথা ভেবেছি। ব্যান্ডসঙ্গীতে, সামাজিক ক্ষেত্রে, বাউলদের ক্ষেত্রে, লেখালেখির ক্ষেত্রে, কবিতার ক্ষেত্রে; আমার কোন লেখাই কিন্তু আমার কেন্দ্রিক না। আমি মাকসুদুল হক, আমাকে ১০ জন চেনে দ্যাটস গুড এনাফ। আমি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পাত্র না এবং আমার অফুরন্ত ভান্ডার আছে, তার ১০ পার্সেন্টও আমি দিতে পারিনি। আমার আর পাওয়ার কিছু নেই। আমার দেবার ইচ্ছে, দিতে চাই। কোথায় যাব জানি না, তবে দিতে দিতেই বিলীন হয়ে যাব।

মানসিক ভাবে যখন অসুস্থ হয়েছি আমাকে একবার ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফিয়ার সাইকোসিস যেটা বলে, সেটা হয়েছিল। প্রায় মাস দেড়েক ফাংশনাল ছিলাম না। এ দেশে সমস্যা হলো, মানুষ যখন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়, তখন তাকে পাগল বলা হয় এবং পাগল শব্দটা একটা সামাজিক অপরাধ। তবে আমি মনে করি, আইনস্টাইন থেকে শুরু করে বিশ্বের এমন কোনো বড় মানুষ নেই, যারা নতুন কিছু করতে গিয়েছেন, পাগল বলা হয়নি। আরো মনে রাখতে হবে, কোনো লোকই হান্ডেড পারসেন্ট মেন্টালি ফিট না। যে বলবে আমি মানসিক ভাবে ১০০ ভাগ সুস্থ সে আসলেই পাগল।

Saturday, February 07, 2015

The Bangladesh Poet of Impropriety: 42nd I-Day Message: Overthrow Corrupt Political System

The Bangladesh Poet of Impropriety: 42nd I-Day Message: Overthrow Corrupt Political System: The silence of citizens is understandable for murder merchants have maneuvered and positioned themselves today with an aura of menacing respectability. Death is simply not the extinguishing of life. Death is numbing and deafening of our senses even as we live. Death is the beginning of life’s wheel being slowed down on terms that are dictated by the powers unknown to us, and ones who have uncannily decided to ‘act God’. Thus to expect each and every Bengali to be a ‘brave revolutionary’ is sheer stupidity!

Friday, September 05, 2014

'জিহাদ বাংলাদেশ' এবং 'ইজতিহাদ' সম্পর্কে

আমার মনে হয় এই মুহর্তে আমাদের সব চাইতে জরুরি ভিত্তেতে যেটা দরকার তা হলো এই সকল ওয়াহাবী/সালাফি/শরীয়তি ইসলাম পসন্দ আলেম উলেমা মল্লাহ্দের সাথে একটা প্রকাশ্য সম্ভব হলে টেলিভিশন এর মাধ্যমে 'বাহাস' বা 'ইজিতিহাদ' তথা যুক্তিতর্কে বসা | অনেক যুগ অনেক কাল পেড়িয়ে গেছে উনাদের এক তরফা ভুয়া ইসলাম এর মন্ত্র গিলতে গিলতে | অনেক বাজে কথা ওয়াজ মহফিলে, মসজিদে বলা হয় যা সব এক তরফা 'বয়ান' যেন সয়ং আল্লাহ নিজেই কথা বলছেন | কোনো রকম পাল্টা প্রশ্ন করা, আলেমদের কে নাকি 'বেইজ্জতি' করা| সেটা 'হারাম' উনাদের ভাষ্য মতে | এমনকি রাসুলাল্লাহ কে নিয়ে এদের মিথ্যা অধিকংশ হাদিস আমরা মেনে নিয়েছি সত্য বলে | আজকের দন্ড 'প্রকৃত ইসলাম' ও 'পোশাক ধারী মোসলমানের' দন্ড | যতই চেষ্টা করেন কোনো লাভ নেই কারণ আদতে আমরা ধর্ম সংক্রান্ত কোনো আলাপ 'স্পর্শকাতর' এর সিল দিয়ে বাক্সবন্দী করে রেখেছি স্বাধীনতার পর থেকে | 'প্রগতিশীল' আওয়ামী লিগ বলেন, 'মৌলবাদী' বিএনপি বলেন, জামাত বলেন আর হেফাজাত, আল কাইদা বা আইসিস বলেন - সবাই তো ওই একই ওয়াহাবী/সালাফি/শরীয়তি ইসলামের ধারক বাহক এবং প্রতিপালক! কি ভাবে ওদের সাথে লড়বেন যখন প্রকৃত ইসলাম, খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের, দরিদ্র মানুষের মোহাম্মদী ইসলাম সম্পর্কে বিন্দু মাত্র জ্ঞান বা ধারণা নেই আপনাদের?

Friday, September 06, 2013

Abdur Rahman Boyati and the legacy of the body clocks last seconds

ABDUR RAHMAN BOYATI - 1939 - 2013 
Hasib Zakaria ©
 

by Mac Haque


Throw some food our way, not flowers at our corpse.’ Kuddus Boyati

When the legendary Abdur Rahman Boyati made his transition on August 19, 2013 the loss to the nation was not of a ‘star’ but a galaxy disappearing from the heaven above.  Paralysed with a cerebral stroke on September 17, 2003 and unable to sing, for nearly ten years the legend survived on contributions from all sections of our society. Yet when it was time to bid our final adieu to the man who represented Bangladesh in many an international event, gaining admiration and respect for his raw and pristine artistry, the picture that was repetitive and revolting was his apparent state of economic hardship. Revolting, for the media and social networks more than focusing on his music or his art or the man that was Rahman Boyati, went on an overdrive of shallow and hypocritical crocodile tears.

Images of musical icons living and dying for what they believe in and the art they practice scrupulously at great sacrifices to their societal or even familial needs and wants – is neither new nor surprising. However, what does merit open discussion is the word dustho shilpi which popularly may mean ‘destitute artist’ – yet in colloquial Bangla, also means a performer who is a pauper! In both cases the term is abusive, strips off dignity and is an insult to someone who has contributed enormously to culture by sticking true to our roots – our origin.

While music as an institution has traditionally received wide appreciation and fondness among people, and is a business of unimaginable magnitude, yet when it comes to state’s recognition, the government’s apathy is numbing. That the death of Rahman Boyati is no less the death of a heritage dignitary, a Bangladesh Ambassador of our majority rural citizenry was selectively expunged from public memory. Economically disadvantaged singers and musicians have time and again been meted with the same treatment before or after their deaths. Nothing can be more shameful.

We have a ministry of cultural affairs  that apparently has a fund for ‘destitute artist’, meaning the mindset has taken it for granted that a musical artist is destined to die pauper and such funds can, or will be used to make the government look like a tokenistic do-gooder! However, is fund and cash doles the only available option to ensure music and musicians will survive?  Sadly it is not, for more than money, it is our abject insensitivity at not creating enough space for musicians is ultimately where death knell for the arts rings loud.

Musicians more than money are denied the opportunity they deserve whether that is in the media or LIVE performances. Corporate exploitation and overkills of the arts chooses merely to tag and piggyback upon an artist’s ‘image’ and ‘popularity’ profiles to sell its product. When Rahman Boyati died, the hushed shock that enveloped everyone was ‘he never received any state honour’. But what state honour are we talking about here?

The biggest ‘honour’ that anyone involved with the arts can hope for is the Ekushey Padak. However, it is just not given to a recipient solely based on his or her merits and talents, but more so with how ‘otherwise talented’ they are in building political and media ‘connections’, and in their social networking amongst culture vultures and touts closest to the administration.

For someone as simple and naïve as Rahman Boyati, it was unthinkable to stoop so low, and it is a sheer tragedy that very few heritage artists have so far received the award. In the case of Rahman Boyati as is being speculated, a belated award may only serve the purpose of a nation’s afterthought to ‘honour’ a legend. But when it comes to taking stock of how Rahman Boyati ‘honoured’ Bangladesh all his life without asking for anything in return; a mere award that hangs in his home desolate in his absence and a few lakh takas paid to his beneficiaries can only be considered tokenistic bordering on depravity – no different than the ‘pauper’ tag we as a nation seem ready to mouth at any given opportunity.

If we at all have to honour likes of Rahman Boyati and other heritage icons and luminaries, we need to have a thorough and undiluted understanding of our rural traditions.

Boyatis musically and philosophically are in the same genre as Bauls. Whereas in the case of the latter it evolved in the erstwhile Nadiya district of pre-partition Bengal now comprising Kustia, Meherpur, Jhenidah, Chuadanga etc the Boyatis were predominantly concentrated in and around Dhaka district extending further until Faridpur and Manikganj.  However the geographical locale of the Boyati tradition is today expansive. Indeed wherever there are Bengali speakers, Boyatis are inevitably present offering not only a cultural, but importantly a spiritual service. Other than the length and breadth of Bangladesh, Boyatis reaffirm the tradition all the way from West Bengal to London!

The advent of the Boyatis can be traced back to the earliest Sufis who arrived in Dhaka some 700 years ago. Concentrated in the Azimpur locality the relics of the Dayera Sharif still in existence stands as a testament and silent reminder of the Sufi influence in our culture, with the Boyatis among others, the earliest exponents of the music, philosophy and legacy of Saints buried in its premise.

The word Boyati on the other hand etymologically means someone who has taken ‘bayat’ or ‘diksha’ (initiation) imparted on them by their Guru/Murshid. It is a lifelong oath and a pledge of secrecy for committed dedication to serve toiling humanity. Boyatis like Bauls believe in the primacy of a Guru/Murshid and remain for a considerable period of time under such a person’s tutelage. They are usually followers of the Chistia and Qadriya tarikat of Sufi orders.

The word also implies a direct relationship to Islamic history of the Ahl-al Bayt i.e the spiritual descendants of Prophet Muhammad (pbuh) who carried forward the mystically esoteric and exoteric messages encoded within the Quran. The Ahl-al Bayt or ‘people of the mantle’ encapsulates the Prophet himself, his cousin and son-in-law Ali, daughter Fatima, and grandsons Hasan and Hussain, i.e. the purported  pak panjtan (the exalted five) as in Sufi spirituality.

Boyatis therefore depend on shirzanama for their music and spiritual teaching and guidance. These are well recorded and agreed upon hagiographical flowcharts that tracks back the original message/s conveyed as ‘lip to ear wisdom’, via a chain of transmissions of innumerable Gurus/Murshids all the way to the fountainheads of the four known and popular tarikatsChistia, Qadriya, Mujadediya and Nakshabandiya – and even further to the secret teachings of the original Ahl-al Bayt.

Boyati is also someone who performs bayan or explanation of the Holy Scriptures, or a canvasser in today’s terminology, maybe even an evangelist. They are bards and minstrels, and as Islamic history records stayed true to tradition in face of Wahabi/Shariati demagogic bigotry that has all too often derailed the course of life and living in South Asia. Boyatis represents a resistance to orthodoxy and religious bigotry and like the Bauls/Fakirs and Sahajiya’s have likewise faced oppression and societal ostracisation.

Rahman Boyati was already a musical phenomenon even before the independence of Bangladesh. Around 1973-74 he had regular performances in the state owned Bangladesh Television (BTV) and his sonorous rendition of the perplexing song ‘Deho Ghori’  (The Body Clock) that covers everything from human anatomy, physiology, neurology, embryology, the central nervous system and sexuality, among others, made him a household name not only in the rural backwaters but also among the urban middle class and elite enthusiast.

When likes of mainstream performer Fakir Alamgir and the late Feroze Shai started covering the song with their respective bands from 1975, Rahman Boyati and the song together become a national spiritual icon.

There were good reasons for the song to have the impact in the broader spectrum as there were important parameters to be considered. Contrary to popular misconception, the lyrics were not penned by Rahman Boyati. In the initial rendition the ‘signature line’ was appended with his Guru/Murshid’s name ie Alauddin Boyati. No one knows for certain who the original song writer was and it may have well been conveyed to Alauddin by his immediate Guru/Murshid, their predecessors and so forth.

The beauty of the oral tradition that Rahman Boyati explained to me is the name of the ‘podo korta (poet/lyricist) is unimportant. It is to maintain continuity of the encrypted message/s that has to be kept alive and organic, is the foremost criteria. Therefore in ‘Deho Ghori’ Rahman Boyati  not only maintained continuity of what his Guru/Murshid imparted upon him, but set forth a new trajectory for later day transmissions by enthusiasts, which in 1995 I had the supreme honour and privilege to carry forward.

It was Mustafizur Rahman then general manager of BTV, who commissioned my erstwhile band Feedback to create a fusion version of the song ‘Deho Ghori’ together with Rahman Boyati for an Eid day special show of the magazine program ‘Subhechha’. The famed debater Abdun Noor Tushar was to make his debut as a show host. Feroze Mahmud was the producer, and he organised Rahman Boyati to come over to BTV and handover a scratch of the song on a cassette recorder. Pearo Khan on behalf of the band went over, recorded the song and wrote down the lyrics, which was abridged from the original given allocated time slots issues in BTV for music airing.

What set into motion was a marathon 72 hours as FeedBack doggedly worked on the song, argued endlessly about tone and tonalities – and in the end were ready to bring in Rahman Boyati to Soundgarden studio to dub his voice. It was to be my first meeting with someone who was no less a ‘star’ than Michael Jackson in rural Bangladesh and I therefore spent a sleepless night in anticipation!

Rahman Bhai turned out to be larger than life and joined in spontaneously to sing. It did not matter to him that the song was set to a club beat and his impromptu dancing while recording had us energised. He smiled and laughed all the way through and even volunteered to source a Baul children’s choir to join in the sing-a-long portions.

Two days later, we all packed a bus and set out to Gazipur where a video was shot. On Eid day when the song and video (available at http://tinyurl.com/feedback-boyati) was televised, the outpouring of appreciation and adulation for both Rahman Boyati and FeedBack was awe inspiring. In three weeks time a one song album was launched (the first of its kind in the history of Bangladesh music) and sold over 30,000 audio cassette copies on the first day alone!

My association with Rahman Boyati and the Baul/Boyati tradition increased as days wore on.

If there was one overriding characteristic of Rahman Boyati it was his simplicity to a fault persona. Always appreciative of the work I was doing, one of the fondest moments I have with him was when he thanked me for creating a totally new breed of fans. ‘I feel so proud when young boys and girls wearing jeans, tee-shirts and caps worn backwards come and shake my hand. They wouldn’t have heard my music or known anything about me, if it wasn’t for FeedBack,’ he told me chewing his trademark paan (betel leaf) one afternoon.

The legacy of Rahman Boyati will live on for as long as we take some time to explore the earth we walk on, instead of the imaginary sky we float upon or the ‘stars’ we aspire to become. There are thousands of Boyatis around us, and unless we create the space for them to perform, give them the respect they truly deserve, the tradition and all that we hold precious will die out eventually. That in a roundabout way would be death to whatever has been precious and valuable for our very existence.

New Age Xtra, Friday, 6th September 2013

Monday, August 26, 2013

Polls 2013 - Of power, pain, princes and poli-tricks


by Mac Haque 


''And in what fairy tale would John ever be any sane person’s idea of Prince Charming anyway? He was the opposite of charming. More like Prince Terrifying.'' Meg Cabot, Abandon

THE onset of Eid-ul-Fitr holidays saw Bangladesh struggling to rediscover a semblance of normalcy, which had eluded it from the beginning of the year. For the average citizens, trapped and held hostage between demeaning polemics and arrogance of the two mainstream political parties, the mighty ideals of democracy that all free nations aspire for has been laid waste. Time has come to a standstill as our politicians have stalled our minds to make any sense of the ‘what next’. 

Those ‘what next’s’ have led to a proliferation of ‘what ifs’ and all we can do for now is breathe heavily in anticipation; hearts asunder, we wonder whether it is any more fashionable to talk about reason. That an absence of reason equals to anarchist insanity is not even being considered in these unreasonable times.

We are forced to gulp nothing more than fear pills about threats of more violence and loss of lives and limbs. The visually violent faces of politicians we see on television or the unfriendly speeches we have to endure cannot make for comforting imaginations when we mull over the prospects of elections 2013. 

Every passing day confronts us with further uncertainties, and there are no assurances or indicators available anywhere to suggest that the loss of opportunities, loss of businesses, and the ultimate trial of our patience and sanity this year will be recompensed in the foreseeable future. Regardless of whether we vote and usher in the Awami League or the Bangladesh Nationalist Party with their respective allies to government in 2014, there seems to be no chance for peace ever to return. 

And all of our continuous pains, insults and ignominies are because we cherish ‘democracy’, which, in the Bangladesh perspective, has historically been no more than a battle of two families that have personal squabbles and scores to sort out, have one-upmanship as their only means to an end. Overindulgence in innuendoes and profanity-filled diatribes in public to force upon the people their mentally convoluted mandate and undermining ‘will’ in the end leaves no one with any inclination that our politician’s intentions are anything but to serve the interest of the people.

As if in a theatre of the absurd, even at the best of times, our politicians remind us of ‘pain’ and how more painful our fate and fortune ought to be, just to remember, like the original sin, the ‘original pain’! 

Take for example the prime minister’s comments, published in New Age on August 19, during her much-heralded press conference about the dismal power situation that the AL government has succeeded in taking a tight rein on. 

While the prime minister surely deserves accolades for the improvements made during her tenure, her statement that she deliberately switches off power for two hours daily and will increase it further so that ‘people can understand (remember) the pain of going without power’ sends very abrasive signals. More than a public display of her tendency to go overboard whenever she is surrounded by cronies, it also suggests arbitrariness of the highest order. 

What has gone unnoticed is improvement to the power situation is not exactly a ‘favour’ granted by the prime minister to the people but a duty she is obliged to perform in keeping with her much-touted dream of ‘digital Bangladesh’. Electricity is not exactly provided free to the citizens at large, yet amongst the phalanx of journalists present during the conference no one questioned or even challenged the revenue losses to the national exchequer for the hours power is switched off because of her whims and fancy.

If it is the loss of votes the Awami League should be worried about, the prime minister’s utterances were subversive in nature, an open admission of abuse of power and fundamentally a violation of her oath of office, and may have easily cost her over a million votes on the day alone. In addition, this punishing ‘pain’ on the people, simply because a huge proportion of our population supports the BNP, is pushing her luck to the brink.

The prime minister should have remembered that despite all the great deeds of her government, the Bengali race tends to sway in the direction the ‘wind is blowing’. Favourable wind ironically is yet to strike the sails of the ‘boat’ she concurrently navigates. Despite all her and the Awami League’s ‘great achievements’ in five years, the party should not forget the Bengali adage ‘Ek mon doodh noshto kortey ek fota lebu jothesto’ (a drop of lime is enough to destroy gallons of milk). The BNP does not have to struggle too hard to win. More sour words from the prime minister aimed at the people are enough to guarantee the Awami League’s suicidal defeat.

On a different note, our politicians have started believing that citizens at large have turned both deaf and mute, or complete jackasses. With constant barrages of warnings about ‘unconstitutional forces’ or individuals who will usurp power at the first given opportunity, they have craftily launched a ‘charm offensive’ that we accept by default ‘unconstitutional leaders’ that both parties are propping up as the nation’s potent saviours as our ‘take it or leave it choice’? 

For the love of God, can someone please tell me who ‘prince’ Tareque and ‘prince’ Joy are to lecture us anything at all on politics and statecraft? Are they elected leaders? Given an even playing field as opposed to the abject advantage of their pedigree, will they ever stand a chance to be elected by the people?

The propping into ‘national limelight’ of these two inconsequential ‘prince wannabes’ displays the political frailty, vulnerability and bankruptcy of both the Awami League and the BNP. It tends to reinforce the public perception that, whilst we continue to pay high prices in our pursuit of the elusive golden deer — democracy, the mainstream parties are anything but democratic. Indeed, what is on offer is a dynastic continuity, meaning Bangladeshis will have to keep tolerating that its land is no more than a fiefdom. 

As far as ‘prince’ Tareque’s track records are concerned, the nation has had a taste of his abuse of power and interference in the functioning of the previous BNP government. It is his alternative source of power, the bastion of his cronies and sycophants, termed the ‘young Turks’, in Hawa Bhaban that caused the electoral disaster for the BNP in the last polls and maybe even the consequent 1/11. While public memory in Bangladesh is traditionally short, to imagine that the nation has forgotten the episodes of the past or have forgiven him completely may be basking in a fool’s paradise.

‘Prince’ Joy, on the other hand, emerged out of nowhere ahead of Eid holidays and proceeded on a rampage of ‘killjoy’ comments! Despite his American university degrees and a bideshi wife to boost his image among the ‘peasantry’, when it comes to pettiness, his incoherence and indulgence in poli-trickery led many not only to be surprised but also deeply shocked. When it comes to ‘sophisticated bumpkin-ness’, there is not too much of a difference in his demeanour that sets him apart from his newly sworn nemesis — ‘prince’ Tareque. 

The media in combi with the BNP, however, had a field day making mincemeat when he muttered unintelligibly about having access to ‘information’ that confirms the Awami League would have a thumping victory in elections 2013. What actually transpired was ‘prince’ Joy used something akin to Gallup Polls outsourced to some of his buddies, as a guiding parameter to his ‘prophetic comment’. That the ‘information’ itself could have been doctored to please him is where he failed to make any matured judgement. 

That aside, the social network images of his mother (the prime minister) cooking in the kitchen for his birthday did nothing to boost his image; on the contrary, it may have projected him as a pampered ‘mama’s darling’.

However, what is very baffling is the public perception in general that the BNP will sweep into power. The success of the party in routing the Awami League in five city corporation elections may have buoyed their confidence, yet their rabidly growing ‘overconfidence’ about the people’s likely mandate is worrying and raises some pertinent questions: 

1. Assuming that the BNP accedes to the AL intransigence on the caretaker government issue and wins a decisive majority in parliament, bringing them back to power, will the next elections then be held under the BNP government? If yes, would the Awami League be ready to accept the same and contest the next elections under the BNP?

2. If the BNP comes to power, will it be possible for it to go along with the excess baggage they have accumulated over the past five years in the shape of the extreme right-wing Hefajat-e-Islami or even the remnants of Jamaat-e-Islami? Specifically, will they accept the 13-point demand of Hefajat and other such groups in the lunatic fringe? 

3. Assuming that the Awami League loses and is back in parliament as the opposition, does it mean the war crimes tribunal will be dismantled and all convicted criminals set free? Will the continuation of whatever has been of common good to the citizens in the AL tenure of five years be torpedoed?

4. Assuming that point 1 becomes a reality, does it mean that the Awami League has gotten so bankrupt (or ‘rotten’ to quote Khaleda Zia) as a political party that there is absolutely no chance of it ‘ever’ coming back to power?

While we mull over the above ‘what if’ hypothesis, the most important points for the citizens to consider is the following: 

5. In the event of a BNP victory and capture of state power ‘democratically’, what guarantees do the citizens have that the Awami League will give a respite to street agitations, murder mayhems, human rights abuse, attacks on minorities and women as well as unending calls for hartal? 

6. What assurances do we, as voters, have that tit-for-tat regime of violence and uncertainties that has been part and parcel of our so-called ‘political culture’ will end for good?

For now, there are unfortunately no convincing answers. 

The BNP’s agenda for the polls is to merely trash the Awami League’s achievements and focus on what it sees as ‘corruption, arbitrary conduct, violence, human rights abuse’ and the much misused propaganda of ‘attack on Islamist and their construed faith and belief by atheist in the government’. That the BNP cannot absolve itself from the same exact evils and the same allegations is one that bedevils the national psyche.

Likewise, the Awami League’s agenda for the polls is only to talk about its achievements, and how the nation will face the prospects of ‘militancy, bomb attacks and rehabilitation of war criminals and Taibanisation’, if the BNP wins — an old and rehashed piece of trash that does nothing more than to appease the US and its allies in the non-existent war on terror! Other than a continuation of one fear psychosis or the other, the Awami League or the BNP has nothing tangible as such on offer.

In the above scenarios, it is not the politicians but the citizens who in the end will be the perfect and ultimate losers. Whether or not the election will be held at all is speculative, yet if within the ongoing chaos a ‘respectable poll’ does come through, what will be interesting to look out for is no party having a clear majority to form a government. A ‘hung parliament’ will hopefully usher in a ‘political culture’ where the Awami League and the BNP will be left with no option but to battle it out on the parliament floor — and not on the streets, not at the cost of innocent citizens. Outdating either ‘decisive’ or ‘brutal majority’ seems to be the only answer for the time being. 

I welcome the prospects — as a hung parliament will ensure that the people, the citizens will be spared the ‘pain’ of being hanged by politicians repeatedly!


New Age Op Ed Monday 26th August 2013